Tuesday, January 22, 2008

ছায়াসঙ্গী

আমি যাবনাতো সঙ্গে
তবু ফিরব সাথে সাথে।
ফিরব দিনে ফিরব রাতে
সকাল-দুপুর সাঁঝ-প্রভাতে,
দিবা স্বপ্ন হয়ে আমি
ফিরব আঁখির পাতে ।

আমি দেবনাতো ধরা
তবু ফিরব হাতে হাতে ।
লেখা হয়ে দেখা দেব
সবুজ পত্রিকাতে ।

আমি হাসি হয়ে পরশ করে যাব
-তোমায়-
বাতাস হয়ে করব আলিঙ্গন,
ঈর্ষা হয়ে জ্বলব
যদি দেখি কোনো সতীন আছি সাথে ।

আমি চাইবনাতো কিছু-
তবু কান্না হয়ে পরব ঝরে
যদি তুমি ফিরে না চাও পিছু ।

গভীর রাতে ফিরব তোমার বুকে
ফিরব চুপিসারে ।
মধুর হয়ে যাব মিশে-
প্রিয়, তোমার সুপ্ত চেতনাতে ।
তোমায় রাখবনাতো ধরে
তবু প্রেমের শিখা জ্বালিয়ে প্রাণে-
আশা হয়ে ফিরব প্রতীক্ষাতে

আশা ও ভালোবাসা

তুমি কেন তোমার মতন হলে
কেন ন-ও অন্য রকম
এ রকম প্রশ্ন কি করেছি তোমায় !

আমাকেও থাকতে দাও
আমার মতন হয়ে-
হৃদয়ের এক পাশে
চোখের কোনায় ।

তুমি যে তোমার মত- তাই,
বার বার দাও দূরে ঠেলে;
দুচোখ তোমার তুমি
রাখ বন্ধ করে ।
জান তবু তোমার আন্তরে
ব্যাকুল দু-চোখ মেলে
বসে আছি- লজ্জাহীন
দীনের থেকেও দীন
ভিখারির বেশে,
আশার প্রদীপ জ্বেলে ।

তুমি যে তোমার মতন
তাই ভালোবেসে
কাছে এসে নেবে বুকে তুলে-
আমার মতন এই আশা
বাঁচিয়ে রেখেছে ভালোবাসা

নিরালা

নিরালা এক ঘরের কোনায় ছিলাম বসে।
স্বপ্ন ছিল অলিক অনেক;
আশাও ছিল- তবু সে
সব ই ছিল ছাই চাপা
আগুন যেন। হঠাত্ সেদিন
ফাগুন মাসে ছন্নছাড়া
ঘরছাড়া এই পাগল হৃদয়
বিদায় দিল নিরালা কে ।

অনেক লোক, দৃষ্টি অনেক-
বৃষ্টি হল অনুকম্পা
ছিল যা সব
লুকিয়ে রাখা-
চক্ষুলজ্জার পর্দা ঢাকা-
দেখল অনেক চোখে ।

আমার হৃদয় দেখল তাকে
যাকে দেখার আশা
ছিল স্বপ্ন হয়ে আমার বুকে ।

নিরালা এক ঘরের কোনায় বসে আছি ।
শূণ্য হৃদয় পূর্ণ শোকে ।
বিদায় দিয়ে এলাম যাকে-
স্বপ্ন তার বন্দী আমার চোখে ।

Tuesday, January 15, 2008

ক্ষুদেনদী







ডিম‌্ ডিম‌্ ডিম‌্ মাদল বাজে
ক্ষুদে নদীর বাঁকে,
সুন্দরী লো সুন্দরী
সব নোলক দোলাও নাকে .
তির্‌ তির‌্ তির‌্ পাথর বেয়ে
নদীর ছুটে চলা ,
সুন্দরী তোর রূপের ছ্বটায়
বিবাগী মন ভোলা .
ঝিম‌‌্ ঝিম্ মন নেশায় মাতাল,
মাদল বাজার তালে,
সুন্দরী সব আয় ছুটে আজ
ক্ষুদেনদীর জলে ।

মাতাল আকাশ, মাতাল বাতাস
মাতাল নদীর জল।
মাতাল করা নাচের তালে
মাদলে তোল বোল ।
আগুন ঝরা ফাগুণমাসে
বনে বনে কি উচ্ছ্বাসে
ফোটে পলাশ ফুল,
পাষাণ বুকে মহুয়াফুল
দোলে দো-দুল দুল।
নেশা নেশা রঙিন চোখে
সুন্দরীলো তোকে দেখে
ভ্রমর হলো মন,
সুন্দরীলো বুকে এসে
মনের কথা শোন ।
ডিম্ ডিম্ ডিম্ মাদল বাজে
বুকে আমার ঝড়-
সুন্দরী লো কবে রে তুই
আসবি আমার ঘর !

ভন্ডামী




ভন্ডামীটা ঘোমটা মাথায়
বসে আছে অন্তরে,
বাইরে তবু লজ্জাবতী
কুলবধুর ভেক ধরে
ঠকাতে চাই জগতকে.

ঘরের মানুষ দোষ করেনি
মন্দ আমার অন্তরে
পরপুরষে মন মজেছে,
সাপ নচুনে মন্তরে
নাচাতে চাই মহত কে ।

Monday, January 14, 2008

তোমার চিঠি







তোমার চিঠি পাওয়া,
লাগল পালে হাওয়া,
মাঝ দরিয়ায় ভাঙ্গল মাঝির ঘুম ।

আকাশের বুক চিরে-
আলো ঝিলিক মারে-
বাজপরে আজ ভাঙ্গল কুঁড়েঘর
তীরের বুকে শব্দের তার প্রতিধ্বনি
গুম গুম গুম গুম
মাঝ দরিয়ায় ভাঙ্গল মাঝির ঘুম

নদীর বুকে জল
টলমল টলমল
নৌকোখানি ভাঙ্গল বুঝি ঝড়ে
-ও মাঝি তোর বৈঠাখানি শক্ত হাতে ধর
বৃষ্টি হল শুরু
দুরু দুরু দুরু
মেঘের বুকে ভয়,
জল মিশেছে জলে আজ
না জানি কি হয়

সন সন ঐ ঝড়রের সাথে
বাতাস বয়ে চলে
আছাড় খেয়ে পরতে নদীর জলে
তোলপাড় ঐ নদীর বুকে
বর্ষার মরসুম
মাঝিরে তোর এতদিনে
ভাঙ্গল কি কাল ঘুম !
উথাল পাথাল জলে
খোলা গগন তলে
আজ নিশীথে প্রকৃতিতে
মাদল বাজায় ঝড়
মাঝিরে তোর বৈঠাখানি শক্ত হাতে ধর ।

আকাশের বুক করেছে আজ
দখল মেঘের দল
নদীর বুকে ঢেউএর তালে
উঠছে নেচে জল
প্রকৃতিতে তান্ডব আজ
মিলনের মরসুম

এই অবেলায় মাঝিরে তোর
কে ভাঙ্গাল ঘুম !

শূণ্য থেকে শূণ্যতর




সময় যখন তোমার চোখে হারিয়ে যায়,
তখন প্রেমিক সে কি করে,
আর পড়েনা মনে ।

যখন চোখের কোনায় হাসির ঝিলিক
ঠোঁটে রাগের ভাষা,
তখন কোন আশাতে প্রেমিক প্রাণ
উথাল ভালবাসায়-
তাই বা কে জানে !

এখন শুধুই আকাশ দেখে ভয়ের বাড়ি ফেরা,
শূন্য থেকে আরো শূণ্য ভাবা ।
শেষের কাছাকাছি নাকি এখন-ও আছে বাকী
এ কল্পনা আর জল্পনা -
এখন শুধুই আর কিছুদিন
জীবন দেখার আশা ।।