Thursday, September 22, 2011

লাগাম


লাগাম টেনে ধর বন্ধু লাগাম টেনে ধর ,
মনের কোনায় আপদ ঘুমায় এবার বিদায় কর ।
পদ্ম গন্ধী হৃদয় তোমার সুবাস থাকুক ছেয়ে ।
আপন যে জন হবে না তার থেকোনা পথ চেয়ে ।
কোনও এক অলস সময় পড়বে মনে যদি,
ভেবে নিও কাল যে ছিল আজ সে মরা নদী ।
জীবন তোমার নয় খেলাঘর , নেশার পাত্র নয়,
অপাত্রে হে বন্ধু জীবন আর কোরো না ক্ষয় ।
দেবার পাত্র শেষ হয়েছে আর তো কিছু নেই,
বন্ধু জনের ঘর ভাঙ্গেনি মনের আশা এই ।
বুঝতে আমায় ভুল কোরোনা, তাও বা যদি কর ,
তবুও হে বন্ধু মনের লাগাম টেনে ধরো ।।

Wednesday, September 21, 2011

কিছু কথা


অনেক কথা থমকে গেল তোমার চোখে চেয়ে।
মেঘ করেছে হৃদয় ছেয়ে,
ঝড় উঠেছে মনে,
দুষ্টু হাসি ঝিলিক মারে,
তোমার চোখের কোনে ।

হৃদয় কেন ভারি, কেন বুক করে দূর দূর,
আশঙ্কা সব ভাসিয়ে দিল হাসির সমুদ্দুর ।
কেন এত ভয় , কেন দুঃখ এত কর ,
এ খেলাঘর নয়, জীবন শক্ত হাতে ধর ।
তোমার চোখের ভাষায় ছিল এমনই ইঙ্গিত
থমকে গেল আমার কথা বেদনা সঙ্গীত ।


তুমি আমি সন্ন্যাসী তো নই,
আছে প্রাণে সত্য টুকু চাওয়া ।
চিত্ত পাগল আবেগ প্লাবন স্রোতে ,
তাইতে কেবল তোমার কাছে যাওয়া ।
আকর্ষণটা মন্দ কিনা ভালো ,
একি কেবল ছায়া কিম্বা আলো ,
সত্য এ যে জানি শুধু এই ।
অকপটে স্বীকার যদি করে,
তবে কি আর পাপ সেখানে নেই ।
পাপ-বোধে কি তাকাও না আর চোখে ,
ভাব কি যে মন্দ বলবে লোকে ।
ভয় লজ্জা আমার নেই যে কেন ।
তোমায় যখন দেখি সবার মাঝে ,
হৃদয় বীণার ঝঙ্কারেতে বাজে ,
শুধু মাত্র তুমিই আছ যেন ।
পাপ যদি হয় পাপীই আমি তবে ,
মন্দ বলে বলুক আমায় সবে ।
শুধু তুমি সত্যি টুকু জেন ।
শরীর মন আর হৃদয় দিয়ে চাই ।
তুমি ছাড়া কেউ সেখানে নেই
আমার প্রেমে ফাঁক নেই কো কোন ।

Monday, September 19, 2011

খোকার স্বপ্ন


মায়ের স্বপ্ন

স্বপ্ন চোখে ভাসে –
মায়ের স্বপ্নে খোকা হাসে ।
ঘুমের থেকে উঠে দেখে
দেয়াল চারি পাশে ।

কঠিন দেয়াল যত ,
কঠিন তারি মত ;
স্বপ্ন এমন ভাঙ্গা ,
স্বপ্নে খোকার নরম দুটি চরণ ছিল রাঙ্গা ।

নরম ছিল মুঠি
হাঁটত গুটি গুটি
টলো মলো পায়ে ।
বছর গেলে মায়ের খোকা চলত রাঙ্গা পায়ে ।

মায়ের কোলটি ঘেঁসে
দাঁড়াত সে এসে ,
ঘুমটি এলে পরে ;
মায়ের কোলে পরম সুখে থাকত ঘুমের ঘোরে ।

ইটের দেয়াল
সিমেন্ট দিয়ে বাঁধান ঘর বাড়ি ,
তাই  তে খোকা করেছে কি আড়ি
মায়ের সাথে আজ ,
খোকার ডাকে স্বপন-পুরে আসবে কখন মাগো ;
সাঙ্গ করে দালান বাড়ির কাজ ।

মা কাঁদে –হায়,
হায়রে জীবন-
বেঁধেছ আজ এ কোন জাঁতা কলে !
খোকার স্বপ্ন কেঁদেই গেল চলে ।

Saturday, September 17, 2011

শিশু সৈন্য


দিনের পর দিন চলে যায় রাতের পর রাত ,
তুমি ও জান আমিও জানি, পেট ভরে নেই ভাত ।
তবুও পথে চলতে হবে, তবুও কাঁটা দলতে হবে,
লক্ষে যেতে হলে ।
অদৃশ্য শিকলে বাঁধা মানুষের মিটিং-এ মিছিলে ।
সেখানে আছে তো শুধু কথা আর কথা  ,
শুষ্ক বারতা ।
তবু এক দিন সূর্য উঠবে পশ্চিমে ,
ভাত দেবে, ছাত দেবে , গরীবের মাথা গুনে ,
আমাদের নেতা ;
মালিক শিকল নাড়ে ঝম ঝম ঝম ,
পথ চল, ভোট দাও
আশা কর কম ।
তোমাদের শিশু দাও আমাদের সাথে ,
গড়ব সৈন্য হাতে হাতে ,
ভাত দেব, ছাত দেব গদি ফিরে পেলে ;
গোনো দেখি কমরেড কত বাচ্চা পেলে ।।

Thursday, September 15, 2011

কেন আমি লিখি


কবি তুমি কোন তাড়নায় দেখেছিলে
ঝলসান রুটি এক পূর্ণিমায়,
কামের পিছন ছুটে ছুটে
চার হাত-পায় ,
ভেঙ্গে গেল মন ।
নিচের খিদেই শুধু –
বুকে ধরায় রঙ -আমার
কামড়ে ধরা কাম ।

মায়ের কোলেতে কাঁদে
জ্বরে ধরা ছেলে –
পূর্ণিমায় গ্রহণ লেগেছে যেন ,
মা ডাকেন চাঁদের ললাটে-
আয় টিপ দিবি আয় –
আমার মনটা কাঁদে হায় হায় হায় ,
আমায় কেন যে শুধু কাম কামড়ায় ।

জ্যোৎস্নার বিভোর মায়ায় ,
কবি তুমি ডাক দিয়েছিলে ,
আয় তোরা আয়, খেলি বন-জ্যোৎস্নায় ;
কেমন সে সুন্দর রাত,
কেমন সে মুকুলিত আমের পল্লব ,
কি ছিল সে মাতাল  হাওয়ায় ,
আমার হৃদয় কাঁদে হায় হায়  হায় ;
কেন আমি ছুটি শুধু কামের তাড়ায় ।

শেষের সে দিনটিতে কবি,
তোমার কথার মালা লে ফেলে রেখে গেলে ,
 ভালবেসে  তুলে নিয়ে,
রেখে দিই হৃদয়ের গোপন কোনায় ।
সে মালার সুগন্ধে হৃদয় হারায় –
আমার সকল কাঁদে হায় হায় হায় ।
কেন আমি লিখি শুধু কামের তাড়ায় ।।


Sunday, September 11, 2011

অসঙ্গতি

কবি তোমার বয়স হল চার কুড়ি আর আট,
এখন তোমার ফুল বাগানে
সাদা তুলোর আঁটি,
তবুও তোমার নাভির নীচে
টাকার সুড়সুড়ি ,
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাবে কি
তোমার পোড়া কাঠি ।
নিঘৃণে মা, দিদিমা দিচ্ছ ঢেলে থালায় ,
বৌ যে এখন একলা ঘরে
খাটের আলো জ্বালায় ।
কোমরে জোর না থাকে তো
আসতে দাও ঘরে ।
তবুও এখন টাপুর টুপুর
বৃষ্টি ঝরে পরে

জ্যোৎস্না খুঁজে ফিরি

তুমি ডাকলে -
জ্যোৎস্নায় পা ডুবিয়ে চলে এস মালতী ,
আমার কঙ্কালটা হেসে ওঠে ,
তার খাঁচায় খাঁচায়
অমাবস্যার অন্ধকার ,
তবু আমি জ্যোৎস্না খুঁজে বেড়াই ।
তার নরম আলোয়
ডুবে যেতে চাই মালতীর মত ।
অশান্ত, অবাধ্য মেঘ ঢেকে ফেলে চাঁদ,
তারারা উঁকি মারে -জগত ঘুমায় ;
আমি জ্যোৎস্না খুঁজে ফিরি
অমাবস্যার কালো হাত
ছিন্ন-ভিন্ন করে -রাতের বেলায়
জ্যোৎস্নার মায়াবী আলো
খেলা করে কোন ঘরে
তুমি দাও বলে ।