Sunday, May 27, 2012

ফিরে আয়



সীমা পারাপার দ্বর্থহীন ভাষায়
জয় করেছ  সীমানা ছাড়িয়ে ,
তবু তুমি হাঁটছ একা ,
যুগ যুগান্তর ।
কি করে পার-
সব কিছু  হারিয়ে পরিপূর্ণ –
শুধু অনুভবে চূর্ণবিচূর্ণ কর তাকে
যে ডাকে তোমায় –ফিরে আয় !
ফিরে আয় ।।

বেল-কুঁড়ি


বেল-কুঁড়ি তার লাজুক মনে যত কথা রাখে লুকিয়ে
একটা একটা সাদা পাতা  তার ভরা থাকে সৌরভে ।
তুমি জান আমি জানি ,
নরম হৃদয় তবুও হয়ত কেউ কেউ গেছে দলে
কুঁড়ি থেকে তাই ঝরে গেছে পেলবতা ,
সেই থেকে তার কাজল মেঘেরা
ঢেকে দিল চাঁদ তারাকে ,
আকাশে এখন শুধুই দহন
ফুলেদের ভাষা হারিয়ে
শ্লেষ দেয় শুধু ছড়িয়ে ।
তুমি জান আমি জানি –
তবুও পারত কেউ কেউ তুলে নিয়ে
কিছু কথা ফিরে দিতে ।
আমি শুধু এক রাত্রি জ্বালাই তার সেই
পাতা ছিঁড়ে
কিছুটা নিংড়ে নিতে ।।




Wednesday, May 23, 2012

তুমি আসবে কি


তখন ঝড়ের শেষে খর কুটো হলুদ পাতারা
বিছানা পেতেছে-

ছড়িয়ে রয়েছে লাল কৃষ্ণচুড়ারা –
ধুলোয় ঢেকেছে চোখ দুটো –
এক ফোঁটা জলের জন্য তৃষ্ণার্ত
গাছের মত আমিও দাঁড়িয়ে রাজ পথে ।
তুমি আসবে কি আসবেনা -
হলুদ বসনা আমি তীর্থের কাক ।
সেদিন বয়স ছিল কুড়ি ।।
অনেক দশক পাড় করে –
বর্ষার ঘনঘটা – জলে ভেজা রাতে
জানালার গ্রিল ধরে চোখ পেতে রাখি –
অন্ধকারের পথ পাড় করে দিতে-
তুমি আসবে কি!

Friday, May 11, 2012

মনের ভাষা


মনের ভাষা

মনের কথা যখন এলো মেলো-
নিজে বুঝলে ও বোঝাতে পারি না-
তখন কিছু পদ্য বা কবিতা
না হয়ত নিছক ই গান হয়ে যায়।
যে ভাষায় ভালবাসতে পারি,
যে ভাষায় অনায়াসে ঘৃণা করি
যে ভাষা আস্টে পৃষ্টে জরিয়ে রয়েছে
ভিতর বাহির ।
সে ভাষা স্বতন্ত্র, সে ভাষা মেলেনা
সবার । যে বোঝে সে বোঝে-
বাকি টুকু  অধরা রয়ে যায় ।।

মনে হয় আমার কবি  বড় ই প্রাচীন –
মধ্যযুগীয় কথা বলে ।
আমার ভিতর বসে ঘাপটি মেরে –
লেখনী চালায় হাতে ধরে ।
আমি যে আকাশে তাকাই
প্রখর তাপের দিনে
সে আকাশে তারার রোশনাই ঢালে
মনে মনে ।
তার সস্নেহ আলিঙ্গনে মুছে দেয় ক্লেদ
গ্লানি , অকৃপণ হাতে ভেজায় আমায় ।
আমি নিঃস্ব নিরুপায় –চেয়ে চেয়ে দেখি
সে আমার দুঃখ সাজায় কবিতায় ।।


Wednesday, May 9, 2012

বন্ধু আমার




মনের ভিতর আগুন
জ্বলে পুড়ে ছারখার
নদীটা আমার ;
দাবানল আজ বনাঞ্চলে –
শাড়ির আঁচলে ঢেকেছি
সে হাহাকার ।
যত টুকু বালি তলানিতে ,
ঝড় আসে - ছারখার –
এই নদী তবু  পারবে
কি বেঁচে ফিরে এসে –
সাগরের ডাকে সাড়া দিতে ;
প্রতিজ্ঞা আমার
হবে কি পূরণ ।
দূর থেকে কোনো আপনজন –
ছুঁড়ে দেয় এক টুকর আকাশ
মেঘ মল্লার
তার সেই দানে –
আপ্লুত এই মন জানে -
টুপুর-টাপুর বৃষ্টির পর
ঝরবে শ্রাবণ ধারা  -
ছাপিয়ে দুকুল ছুটবে সে ঠিক তার পথে-
মানবে না হার –
বন্ধু আমার অঞ্জলি পেতে নিয়েছি সে উপহার ।।

Tuesday, May 8, 2012

অপেক্ষা

আমার দিন রাত কার অপেক্ষায় কেটে যায় ।
আমি নিজেই বুঝিনা
তুমি বুঝবে কি !
যদি ভেবে থাক আগুনের অঙ্গিকারে
সত্ত্বা বিকিয়েছি –
বিকিয়েছি দেহ মন প্রাণ –
ফিরে নিতে পার এখন তখন –
জমা-খরচের খাতায় –
তখনো থাকবে কিছু বাকি ;
মনের জানলা খোলা
নিঃশব্দ বাতাস উকি দিয়ে যাবে –
একে একে আলো হাসি গান –
বিশ্বাস কোন একদিন ছুঁয়ে যাবে ঠিক
তোমার ও অন্তর ;
আমি বসে থাকব
তার আশার আশায় ;
ভালবাসা গভীর হোক নিঃশব্দতায় ।।

Sunday, March 25, 2012

প্রশ্ন

যখন  সুন্দর তুমি কথা বল,


মিষ্টি হেসে ভালবেসে –

যখন আমার মনের মধ্যে

ফুল বাগানের দোয়েল ডাকে সুরে ;

দূরে দূরে বহু দূরে ছড়িয়ে থাকে

সেই আবেগের রেশ ।

ঠিক তখনি মেঘের ভেলায় সয়ার হয়ে

বৃষ্টি এসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় যে

আমার মন – কোন অজানার দেশ ।।



তখন সন্ধ্যা সূর্য ঢলো ঢলো –

শহরজুরে নিয়ন বাতি জ্বলে ।

আমার তখন দেয়াল ভাঙ্গার খেলা ,

কলকাতাটা তখন অস্তাচলে ।



উঁকি দিয়ে আমার ছোট্টো ঘরে,

উড়িয়ে নিয়ে যায় কে আমার মন ।

আমি থাকি জানলার গ্রিল ধরে,

মনের ভিতর ঝড় ওঠে শন শন ।



যখন তুমি আমার এ হাত ধর,

মিষ্টি হেসে ভালবেসে -

তখন আমার বুকের ভিতর ঢাকের বাদ্যি ,

মাথার উপর আকাশ ভরা তারা

ঘরের যত ইট পরে যায় খসে ।

ছোট্ট আমার বাসায় তুমি

উঁকি দিয়ে গেলে কেন অসীম শূন্যে মিশে ।