Sunday, December 30, 2007

আন্তর প্রকৃতি




অভিমান
একটু একটু করে মেঘের মতন
জমছিল বুকের ভিতর কখন, পায়নি টের!
চোখে তারই ঘণ ছায়া।
পাতাগুল ভারি,
এলো-মেলো পরে তাড়াতাড়ি
চোখের উপর।
এখনও নামেনি বর্ষা
স্তব্ধ অন্তর,
ঝড়ের সঙ্কেতে যেন
চুপ করে আছে পাখি
ভুলে গেছে গান।
প্রাণ আনচান করে-
আঁখি যদি চায় তার পানে
বাতাসের বিপরীত টানে
দূরে চলে যায়।
হৃদয়ের চাপা গর্জন যেন
বলে হায় হায়
প্রকৃতির খেলা একি
অকরুন যেন
বর্ষা না নামে যদি
মেঘ জমে কেন ?

স্বপ্ন যখন ভাঙ্গে


স্বপ্ন চোখে ভাসে
মায়ের স্বপ্নে খোকা হাসে
তাকিয়ে দেখে ঘুমের থেকে
দেয়াল চারি পাশে।
কঠিন দেয়াল যত
কঠিন তারি মত
স্বপ্ন এমন ভাঙ্গা ।
স্বপ্নে খোকার নরম দুটো
চরন ছিল রাঙ্গা। ।
নরম ছিল মুঠি
হাঁটত গুটি গুটি,
টলো মলো পায়ে ।
বছর গেলে মায়ের খোকা
চলত রাগা পায়ে।
মায়ের কোল ঘেঁসে
দাঁড়াত সে এসে
ঘুমটি এলে পরে,
মায়ের বুকে পরম সুখে
থাকত ঘুমের ঘোরে।
ইঁটের দেয়াল, সিমেন্ট দিয়ে
বাঁধান ঘর বাড়ি।
তাইতে খোকা করেছে কি আড়ি
মায়ের সাথে আজ ?
খোকার ডাকে
স্বপনপুরে আসবে কখোন মাগো
সাঙ্গ করে দালান বাড়ির কাজ!

খোকা আছে দাঁড়িয়ে ঐ
স্বপনপুরের দ্বারে,
হাত বাড়িয়ে ডাকছে - ওমা মারে
নে মা আমায় কোলে।
মা কেঁদে কয়-
হায়্রে জীবন বেঁধেছ আজ
এ কোন জাঁতাকলে
খোকার স্বপ্ন কেঁদেই গেল চলে ।।

Friday, December 28, 2007

নিরুদ্দেশ যাত্রা


আজ সারাদিন বৃষ্টি বৃষ্টি- মেঘলা আকাশ ভারি,
দূর সাগরে ঝড়ের সাথে মেঘের বাড়াবাড়ি ।
লম্বা যত গাছেরা সব উঠছে ঝড়ে কেঁপে
পাখীর ছানা প্রবল ত্রাসে লুকায় মায়ের বুকে ।
সাগর জলে জেলের নৌকো নাচছে ঢেউয়ের মাথায় মাথায়,
সেই ছবিটা আঁকতে যে চাই আমার মনের সবুজ খাতায় ।
মস্ত উঁচু ঢেউ যেন পাহাড় আসছে তেড়ে
বালির বুকে লুটিয়ে পরতে আসছে ফিরে ফিরে ।
মনের সবুজ খাতা এখন সাগর দিয়ে ঘেরা
তার সাথে ঢেউ বৃষ্টি আর মেঘলা ঘরে ফেরা ।
মনের খোলা জানলা দিয়ে মেঘ ঢুকেছে ঘরে,
মেঘের ভেলায় স-ওয়ার হয়ে মন বেড়িয়ে পরে ।
কোথায় যাবি কোথায় যাবি মনকে ডাকি আমি,
মন যে এখন বাঁধনছাড়া ভীষণ দ্রুতগামী ।
পেড়িয়ে আকাশ পেড়িয়ে পাহাড় মন চলেছে ভেসে ।
কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইছ- যাচ্ছে নিরুদ্দেশে ।।


আয়না


আয়না আয়না আমার কাছে আয়না
যত-ই ডাকি সোনা আমার
আমার পানে চায়না ,
এই আয়নায় যাদু আছে
চাও যদি এর পানে
তোমার অমন গোমড়া মুখ
ভরবে হাসির টান ।


তুমি বুঝি ছোট্ট ছেলে
বয়স হয়নি আজ ও ?
দেখতে পাচ্ছি মস্ত ঢ্যাঙা
পাচ্ছনা তাই লাজ ও !

লক্ষ্মী আমার সোনা আমার
আর করেনা রাগ ,
ঠোঁটের কোনায় দেখছি যেন
একটু হাসির দাগ ।

আয়না দেখে ইন্দ্রধনুষ
ছেলের মুখে হাসি
মায়ের চোখের তারায় তারায়
পুলক রাশি রাশি ।।

ঈর্ষা


ফুটকি কেমন লালা সিল্কের জামা দেছে গায়
অমনি একটা লাল জামা আমার ও মা চাই।
ফুটকি কানে দুল পরেছে, সোনার দুটো ফুল-
আমার কেন লম্বা-মতন, আমার ও চাই ফুল ।
দেখোতো ওর জুতো-মোজা, ম্যাচিং জামার সাথে,
আমার জুতো বিশ্রী কেমন- মোজা ও নেই সাথে।

এবার ভালো বেশ হয়েছে এক ই রকম জামা,
এক ই রকম জুতো-জামা, বেশ হয়ে না মা ?

শোনরে খুকি বলছি তোকে ইংসা কেন মনে?
যত-ই সাজো এক ই রকম, তফাৎ লোকে জানে
তুই তো মাথায় খাটো, তায় রংটা একটু চাপা
বড়ির মতন নাকটা যেন ভিম বাহাদুর থাপা
ফুলিয়ে গলা ঝগড়া করিস, লেখা-পড়ায় ফাকি
ফুটকি কেন প্রিয় সবার জানিস না তুই তাকি ?
শরীরটা তোর মনের আয়না- ফাঁকি দিস তুই কাকে !
মনের শোভা বারাস যদি বাসবে ভালো লোকে ।।

ঠাকুর যাবে বিষর্যন


কিছুই যে আর ভাল্লাগেনা, সদাই খারাপ মন
ফোস ফোস ফোস দীর্ঘশ্বাস ফেলছে সারাক্ষন
সর্বক্ষন চোখেতে জল দেয়না কিছুই মুখে
হ্যারে খুকি, কি হয়েছে, কে বকেছে তোকে ?
স্কুলের কোনো পরীক্ষাতে ফেল করেছিস -নাকি
দিদিমনি কান মুলেছে- দিস বলে তুই ফাকি?
দুষ্টুমিতে প্রথম যে তুই- এই তো ছিল জানা
গোমড়া কেন মুখটারে তোর, কোথায় হাসি খানা ?

আজ নবমী শেষ যে মাগো, কালকে ভাসান হবে
ঢাক-ঢোল সব চুপ করবে, আলো ও নিভে যাবে,
আরো বারো মাসের পরে দূর্গাপুজো হবে
আবার একটা বছর গেলে পুজোর ছুটি হবে.
কেমন করে কাটাব এই একটা বছর মা !
কি যে করি কিছুই যে আর ভালো লাগছেনা .
মন খারাপের বাজনা বুকে বাজছে সারাক্ষন-
কেমন করে আসি ঠাকুর যাবে বিষর্যন

Monday, December 24, 2007

সবুরে মেওয়া


আমাকে বলে ধৈর্য ধর,
মেওয়াটা ফলে সবুরে।
এখন কিছু অন্য কর।
প্রবধ দেওয়া এমন তর-
ভাল কি লাগে !
তবুরে- আর করি ই কি বা,
হবার যা তা হবেই যদি,
ভাবনাটাকে বলগা দিয়ে
ছোটাই- নদী, আকাশ-পাতাল
পাহাড় পেড়োই- দিনের বেলা
কাজের ফাঁকে পাখির ডাকে
রাতের বেলা ঘুমের ঘোরে
স্বপ্ন দেখি ঠিক দুপুরে-
তার হাতে হাত,
মিলিয়ে গেল স্বপ্ন যখন
তখন ভোরে- ঘুমিয়ে সবাই
আকাতরে-
আমি ছিলাম
আর ছিল সে
আমার পাশে।
নিশ্বাসে এক ভোর হল যেই
সবাই দেখি ডাকছে আমায়
বলছে, খোলো খোলো
তোমার নতুন জীবন পথের ধুলো
মুঠোয় করে তোলো ।।