Saturday, June 4, 2011

সুখের কান্না

সুখের কান্না

এই মেয়ে কানছিস কেনরে ! শুধু শুধু চোখে জল আমি দেখতে পারিনা , মোছ শীগগিরি , পা দাপিয়ে মাসি নিজের কাজে ফিরল । আমি বলতে চাইলাম, মাসি দেখ চেয়ে জানলার বাইরে, এখনো বিকেলের আলো ভরে রয়েছে চারধার, কেমন মন কেমন করা গোলাপী আর সোনালি মেশান আলো , তার পিছনে দেখ ঐ যে আকাশের গায়ে আবছা একটা রামধনু, দুপুরে হাল্কা বৃষ্টি হল যে , আমাদের বাড়ির নিচে বকুল গাছের গায়ে পাখিরা সব ডাকা ডাকি করছে, এমন সব দেখলে চোখে জল আসবেনা ; কিন্তু বলতে পারলাম না ; বললেই তো বলবে ন্যাকামী ।

বকুল এত সুন্দর গন্ধ কোথা থেকে পেল , মাসির গায়ে শুধু ঘেমো গন্ধ । অথচ ছোট্ট মিন্তু, মাসির দেড় বছরের ছেলেটার গায়ে ঠিক এমনি সুন্দর একটা গন্ধ পাই । ভালবাসার গন্ধ , সারল্যের গন্ধ, ভগবানের গন্ধ । যেই ভাবা ওমনি আমার গলাটায় ব্যাথা ব্যাথা, চোখের কোলে জল এসে গেল । ভারি মুশকিল, কেন যে আমার এমন হয়, সুন্দর গান, সুন্দর ছবি, যা কিছু সুন্দর , যা কিছু ভাললাগার, সে সব দেখে আমার মনে কেমন একটা আনন্দ মেশান দুঃখ এসে যায়, আর আমি লোকের চোখের আড়ালে গিয়ে চোখ মুছি । কেন যে কেউ বোঝেনা এটা আমার ভাল লাগার কান্না ।

মাসি খুব গান শুনতে ভালবাসে, ঘুরে ঘুরে কাজ করে আর আর ডিভিডি চালিয়ে গান শোনে । এক্ষুনি সেই গানটা হল, শুনলেই আমার মন কেমন করে ওঠে, ঐ যে ‘বড় আশা করে এসেছি গো কাছে ডেকে ...’ । বা আরেকটা গান ‘কাড়ার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙ্গে ফেল কররে লোপাট...।‘ বার বার শুনতে ইচ্ছে করে । গানটা শুনতে শুনতে আমার বুকের মধ্যে কি যেন গুটলি পাকিয়ে গেল, আর আবার সেই জলটা চোখের কোনায়...কোথা থেকে যে আসে জল গুল- সেটা ও একটা আশ্চর্য ঘটনা । বুঝে পাইনা ছাই । আজ আমার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বেড়বে । কি জানি কি হয় ।

ওমা কে রে? চেয়ে দেখি মাসির কুকুর টুকুস, আমার মুখের দিয়ে তাকিয়ে জ্বল জ্বল চোখে বসে আছে, আর মাঝে মাঝে ধমক দিচ্ছে – ভেউ...কি হয়েছে ? তুই সব বুঝতে পারিস , নারে কুটুস , মাসি ও বোঝেনা , কিন্তু তুই ঠিক আমার মনের কথা বুঝিস । উত্তরে কুটুস দাঁড়িয়ে আমার কাঁধে তার থাবা দুটো তুলে দিল- তার পরে কত যত্ন করে লম্বা একটা জিভ বার করে আমার চোখের জল চেটে চেটে মুছে দিল । এবার সত্যি সত্যি কান্না এসে বুকে বাসা বাঁধল আমার, আজ শেষ দিন- বাবা এসে নিয়ে যাবে কাল । তোকে ছেড়ে কি করে থাকব রে কুটুস , তোকে যে সত্যি বড্ড ভালবাসি রে । আর তক্ষুনি বুঝতে পারলয়াম, একই চোখের জল, তবু দুঃখের কান্না আর সুখের কান্নার কত তফাত ।

তোমার ছোঁয়া

এখন রাতের ভোর
তারারা একে একে যাচ্ছে ঘুমের দেশ ।
পাখির সাথে সাথে
ডানা ঝাপটায়ে জাগছে শহর ।
এখনো আমার ভাঙেনি ঘুমের রেশ ।
আকাশে সোনা আলো
কোনও তারা এখনো উঁকি মেরে যায় ।
আমার শরীর-মন
তোমার ওমেতে মাখো মাখো ।
এখনো তোমার গন্ধ আছে বিছানায় ।
চুরি করে গেলে যে মাহেন্দ্র ক্ষণ
জীবনের ভোরে ,
আমার রোমে রোমে তার আহ্বান ।
এখনো রয়েছে ঘিরে ।
এখন রাতের শেষে
পৃথিবী জাগে ছেড়ে ঘুমের দেশ ।
আমি জীবন ভর আছি প্রতীক্ষায়
নিয়ে তোমার আবেশ ।।

Thursday, June 2, 2011

আমার মানসী প্রতিমা

পিছনে যত দূর মন যায় –
ততদূর চোখ ,
অনুভবে ফিরে ফিরে যাই ,
এ গলি ,সে গলি হাতড়াই ,
তুমি ভাব এ আমার মনের অসুখ ;
তুমি তো জানোনা
কে যেন আমায় রোজ –
পিছু থেকে ডাকে ,
কি যেন বলতে চায় –
হয়নি তা শোনা ।
অতীতের জানালা দিয়ে –
উঁকি মেরে যায় ,
ছুঁয়ে যায় মন ,
কে ঘোরে আমার সাথে ছায়ার মতন ।
সে আমার মানসী প্রতিমা
আমার প্রথম প্রেম আমার রচনা ;
ধীরে ধীরে হাড়িয়ে গেছিল
জীবনের ভীরে ,
সে আমার, মনের আয়নায় –
হাতছানি দিয়ে ডাকে ,
কত যত্নে লালন করেছি তাকে
অন্তরের অন্তঃপুরে
সকলের চোখের আড়ালে ।
তারপর কেটে গেছে কত যুগ-
ভুলে গেছি আমার আমিকে ,
আজ সে একাকীনি, ছিন্নমুল
ডাকে বার বার-
কি চেয়েছ হতে ,আর কি হয়েছ আজ ।
দেখ একবার,

Wednesday, June 1, 2011

চিন্তা

বৌদিমনি, মেয়ের আমার বিয়ে ।
ছেলে কলের মিস্ত্রী, ভালই রোজগার ।
যদিও টাকা চায়নি তারা
তবুও কাজে ভালই খরচ হবে ।
উতরে যাবে, যদি তোমরা দাও
কিছু টাকা ধার ।

মনে মনে শিউড়ে উঠলাম
এ আবার কি জ্বালা ।
ধার দিই আর
তাই নিয়ে তুই পালা ।

মুখে বললাম বাহ বাহ
বেশ কথা ।ধার চাইছ, এ আর এমন কি!
কিন্তু মেয়ে আমার বিদেশ যাবে
পড়বে সেখানে, তার যে অনেক ফি ।
অনেক টাকার ব্যাপার ।
ইচ্ছে থাকলেও পারবনাকো বাপু, তোমায় দিতে ধার ।

করুন মুখে করছে বাড়ির কাজ ,
চিন্তা চোখে –মুখে ,
বাপ মরা এক মেয়ে ,
কেমন করে বিয়ে যে দেয় ওকে ।
টাকার জোগার নেই,
নেই কোনো সম্বল ।
ডেকে বললাম ও বৌ দাও
দেখি ফ্রিজের থেকে একটু ঠান্ডা জল ।

তার জীবনে সবটুকু বঞ্চনা ,
দুঃখ, কষ্টে ভরা ,
আমার চিন্তা কেমন করে এড়াই
তার, টাকাটা ধার করা ।।

Monday, May 30, 2011

নয়নতারা



আমার বাগানে আমি ফোটাতে চাই ফুল
বেল, যুঁই, চাঁপা , সূর্যমুখীও হতে পারে ।

বাড়ির পিছনে দেখি হয়েছে ফুল- নয়ন-তারা ।
থরে থরে ফুটেছে ওরা- আপনহারা ।
কে তাকে এনেছে ডেকে - কে দেয় জল ,
আপন খুশীতে দোলে হাওয়ার সাথে সাথে-বনাঞ্চল ।

আমি বাঁধতে চাই ঘর
নিঃশ্চিন্তপুর, বালির পাহাড়, নয়ত নদীর ধারে ।

পথের ধারে দেখি অনাথ শিশু -কেউ গিয়েছে ফেলে ।
তার নরম দেহ- স্নেহে নিলাম কোলে ।
তার মুখের হাসি- তার চোখের জল ,
কাড়ে -আমার আড়াল ।।

আমি চেয়েছি সুখে থাকা নীরবে নির্জনে
আমার আকাশে যেন থাকে তারা ,আলোর রোশনাই ,
তুমি রেখেছ ভালবাসা পৃথিবী জুরে ,কোথায় পালাই ।

Thursday, May 26, 2011

কবি নজরুল

আকাশ থেকে চুরি করে অসীম শূন্যকে
কেন রেখেছ তোমার চোখে ,
সাগরের গম্ভীর, গভীরতা
কেন ঢেকেছ তোমার বুকে ।
রুদ্রের আগুনে পুড়ে
জ্বালালে মশাল গানে গানে ।
তোমায় সেলাম করি
প্রনমী তোমায় কবি ;
তুমি রয়েছ বাঙালী প্রাণে প্রাণে ।
আকাশে কান পেতে শুনি আজো –
গান গায় তার বুলবুল –
বাংলা ভোলেনি আজো ভুলবেনা –
তোমায় কবি নজরুল ।।

Sunday, May 22, 2011

ব্যাঙ-এর ছাতা

ছোট্ট মেয়ে মিনি রানী
গায়েতে লাল জামা খানি
মুখ খানা তার অভিমানী
সামনে রঙ তুলি তবু আঁকছেনা ।

বাবা ভাবেন হোলোটা কি-
বসে কেন গিয়ে দেখি-
ছবি আঁকা হল নাকি –
থমথমে মুখ তবু মেয়ে কানছেনা ।

কি হয়েছে মিনি-মারে ,
আয়তো দেখি কোলের ধারে ,
জল কেন তোর চোখের পরে;
বাবা ডাকেন তবু মেয়ে শুনছেনা ।

শুনবনা আর কারো কথা ,
নেবনা রং-তুলি-খাতা ,
আঁকতে গেলাম ব্যাঙ-এর ছাতা ,
কিছুতেই সে আঁকাটা হচ্ছে না ।

এখন যে খুব রোদ উঠেছে ,
ঘাসের উপর রোদ পরেছে ,
ব্যাঙ্-এর ছাতা শুকিয়ে গেছে ;
দেখতে কেমন মনে যে আর পড়ছেনা ।

বাবা বলেন তাই বুঝি মা,
সুকুমারের তুই ঠাকুমা ,
আকাশ জোরে বৃষ্টি নামা ,
নইলে বাঙ-এর ছাতা যে আর হচ্ছেনা।