বীনা বা তানপুরা, গিটার বা এসরাজ
এ সব কিছুরই দরকার নেই ,
তাকে যদি গান গাইতে বলি,
শুধু মাত্র অঙ্গুলি হেলালেই ,
ঝর ঝর বৃষ্টি বা থর থর অধরের
ছবি এঁকে দেবে ;
যদি যাই নিরুদ্দেশে,
আপনমনে , নদী, সাগর, অথৈজলের মাঝে ,
তার রিনি রিনি সুরের ছোঁয়ায় ,
ঢেউ গুলো সব সাজে ।
আমার ভুল হয়ে যায় কাজে ,
যখন মনটা শক্ত করে ,
গানের থেকে অনেক দূরে ,
রান্নাঘরের তেলে ফোরন ঢালি ।
খুকুমনির গানটা তখন মনে আসে খালি ।
এমন যে গান সাদামাটা,
গভীরতার খোঁজ মেলেনা ,
কাঁচকলাতে আদাবাটা ,
তাকে কি আর গান বলা যায় ,
তবু কি আর করি ।
রুদ্রবীনা নাই বা বাজল,
অগ্নিসাজে নাই বা সাজল ,
তবুও যে গায় মন ।
গুনগুনিয়ে সুরে তালে ,
কাছে দূরে, দিনে রাতে ,
গাইছে সারাক্ষন ।
শেষের সে দিন হয়ত যখন পরদা টানা হবে ।
অন্ধকারে কালো কালো মাথা গুল –
সব হারিয়ে যাবে ।
গভীর এক শূণ্যতা ঘিরবে নাটকটাকে ।
কেমন করে গাইবে সে আর ,
কে ডাকবে তাকে ।
যেদিন আগুন ঘিরবে
আমায় নাচবে শিখাগুলো ।
সেদিন ঠিকই হারিয়ে যাবে আমার এ গানগুলো ।
Thursday, March 31, 2011
Tuesday, March 29, 2011
ভালবাসা কাছে এসে আমায় জাগাও
আমি দুঃখ পেতে ভালবাসিনা,
আমায় ভালবাসতে দাও ,
ভালবাসা, তোমার নরম হাতে উষ্ণ উত্তাপ ,
সেই তাপে আমায় পোড়াও ।
ভালবাসা কাছে এসে আমায় জাগাও ।
কাছে-দূরে, আসে-পাশে ,
রক্তের কনায় কনায়
নেচে ওঠো উদ্দাম উন্মত্ততায় ।
তোমার সাথে সাথে নাচুক হৃদয় ,
বেদনার নীল বিষ –
অশ্রু রাশি রাশি –
হয়ে যাক বাসী ।
নুতন লেখনী দিয়ে,
ভালবাসা বুকে নিয়ে ,
শত্রু মিত্র ভুলে ,
হৃদয়ের দরজা দেব খুলে ।
দখিন হাওয়ার সাথে এসেছিলে তুমি ,
থেক অন্তহীন চির অর্চিষ্মান ।
তোমার আলোতে প্রাণ হোক উজ্জীবিত ,
দুঃখকে পার করে, অন্ধকার ভুলে ,
ভালবাসা তোমাকে চাই শুধু ।
কোথায় আছ যে তুমি ,
এড়িয়ে বেড়াও ।
ভালবাসা কাছে এসে আমায় জাগাও
আমায় ভালবাসতে দাও ,
ভালবাসা, তোমার নরম হাতে উষ্ণ উত্তাপ ,
সেই তাপে আমায় পোড়াও ।
ভালবাসা কাছে এসে আমায় জাগাও ।
কাছে-দূরে, আসে-পাশে ,
রক্তের কনায় কনায়
নেচে ওঠো উদ্দাম উন্মত্ততায় ।
তোমার সাথে সাথে নাচুক হৃদয় ,
বেদনার নীল বিষ –
অশ্রু রাশি রাশি –
হয়ে যাক বাসী ।
নুতন লেখনী দিয়ে,
ভালবাসা বুকে নিয়ে ,
শত্রু মিত্র ভুলে ,
হৃদয়ের দরজা দেব খুলে ।
দখিন হাওয়ার সাথে এসেছিলে তুমি ,
থেক অন্তহীন চির অর্চিষ্মান ।
তোমার আলোতে প্রাণ হোক উজ্জীবিত ,
দুঃখকে পার করে, অন্ধকার ভুলে ,
ভালবাসা তোমাকে চাই শুধু ।
কোথায় আছ যে তুমি ,
এড়িয়ে বেড়াও ।
ভালবাসা কাছে এসে আমায় জাগাও
Sunday, March 27, 2011
তুমি আলো এনছ এই প্রাণে
তুমি আলো এনেছ এই প্রাণে
সকল অন্ধকার ছিন্ন-ভিন্ন করে
আলো হয়ে আস তুমি ।
হৃদয়ের যত যন্ত্রনা –
টুকর টুকর রঙিন আলোর বন্যা ,
ভাসিয়ে নিয়ে চলে আনন্দের,
খুশীর, ভালোলাগার ছোঁয়ায়,
মন-প্রাণ । কেন দুঃখ তুই থাকিস না আর,
তোর কালির টানে কবিতা আনে,
গানের খেয়া ভাসে তোর
গভীর গহীন কালো নদীর জলে ।
তলে তলে খুশীর ঢেউ
দোলায় নৌকাখানি। জানি
আমি জানি –আজ আমি নই রাধা।
বেদনার সাতপাকেতে বাঁধা ।
আজকে যেন বাঁধনগুলো আলগা হয়ে গেছে।
আছে আছে এইখানেতে আলোর বন্যা,
খুশীর সমুদ্দুর। আজকে আমার দুঃখগুলো
অনেক অনেক দূর।
তারা ভয়ে লুকিয়েছে এক কোনে ।
আজ যে তুমি এসেছ এই মনে ।।
সকল অন্ধকার ছিন্ন-ভিন্ন করে
আলো হয়ে আস তুমি ।
হৃদয়ের যত যন্ত্রনা –
টুকর টুকর রঙিন আলোর বন্যা ,
ভাসিয়ে নিয়ে চলে আনন্দের,
খুশীর, ভালোলাগার ছোঁয়ায়,
মন-প্রাণ । কেন দুঃখ তুই থাকিস না আর,
তোর কালির টানে কবিতা আনে,
গানের খেয়া ভাসে তোর
গভীর গহীন কালো নদীর জলে ।
তলে তলে খুশীর ঢেউ
দোলায় নৌকাখানি। জানি
আমি জানি –আজ আমি নই রাধা।
বেদনার সাতপাকেতে বাঁধা ।
আজকে যেন বাঁধনগুলো আলগা হয়ে গেছে।
আছে আছে এইখানেতে আলোর বন্যা,
খুশীর সমুদ্দুর। আজকে আমার দুঃখগুলো
অনেক অনেক দূর।
তারা ভয়ে লুকিয়েছে এক কোনে ।
আজ যে তুমি এসেছ এই মনে ।।
Monday, March 14, 2011
কিশোরী প্রেম
তোমার কি সবটাই ঠাট্টা, সত্যি কিছুই নয় ।
কখোনো কি আমার কথা তোমার মনে হয় ।
সকাল বেলায় সুয ওঠার পরে \
নরম আলো যখন আসে ঘরে ,
উষ্ণ তোমার চোখ দুটোকে তখন মনে পরে ।
আমি হাসি অকারনে আপন মনে ।
বলি ওরে সোনার আলো ।
যে ঘরে সে থাকে –সেই ঘরেতে তোমার হাসি ঢালো ।
তোমার পরে নাকি মনে ;
তোমায় ভাল্বাসছে অখন কেউ ,
এই শহরের কোনো একটা কোনে ।
সারা বেলা ব্যাস্ত কাজের ফাঁকে
আমার মনটা হাতছানি দেয় যাকে ,
জানিনা সে কেমন করে লামায় ভুলে থাকে ।
বিকেল বেলার মিষ্টি রোদে গোলাপি রঙ ছড়ায় ,
ভুলেও তুমি দেখ কি আর চেয়ে ।
ওমনি করেই তোমার ছবি ভাসে
আমার হৃদয় ছেয়ে ,
পাখিরা সব যায় যে ফিরে নীড়ে ।
আঁধার নামে আমার দুচোখ ঘিরে ।
পাইনা তবু দেখা ,
কোন প্রাণে যে বন্ধু তুমি ফেরাও আমায় একা ।
রাতের বেলা একলা মনে রোজই তোমায় ডাকি,
তুমি শুনতে পাওনা তাকি !
আর কিছু না দিতে পারো স্বপ্নে আমার এসো ।
সত্যি যদি নাও বা পারো স্বপ্নে ভালোবেসো ।।
কখোনো কি আমার কথা তোমার মনে হয় ।
সকাল বেলায় সুয ওঠার পরে \
নরম আলো যখন আসে ঘরে ,
উষ্ণ তোমার চোখ দুটোকে তখন মনে পরে ।
আমি হাসি অকারনে আপন মনে ।
বলি ওরে সোনার আলো ।
যে ঘরে সে থাকে –সেই ঘরেতে তোমার হাসি ঢালো ।
তোমার পরে নাকি মনে ;
তোমায় ভাল্বাসছে অখন কেউ ,
এই শহরের কোনো একটা কোনে ।
সারা বেলা ব্যাস্ত কাজের ফাঁকে
আমার মনটা হাতছানি দেয় যাকে ,
জানিনা সে কেমন করে লামায় ভুলে থাকে ।
বিকেল বেলার মিষ্টি রোদে গোলাপি রঙ ছড়ায় ,
ভুলেও তুমি দেখ কি আর চেয়ে ।
ওমনি করেই তোমার ছবি ভাসে
আমার হৃদয় ছেয়ে ,
পাখিরা সব যায় যে ফিরে নীড়ে ।
আঁধার নামে আমার দুচোখ ঘিরে ।
পাইনা তবু দেখা ,
কোন প্রাণে যে বন্ধু তুমি ফেরাও আমায় একা ।
রাতের বেলা একলা মনে রোজই তোমায় ডাকি,
তুমি শুনতে পাওনা তাকি !
আর কিছু না দিতে পারো স্বপ্নে আমার এসো ।
সত্যি যদি নাও বা পারো স্বপ্নে ভালোবেসো ।।
কল্পনা না সত্য
আকাশটার কত রঙ;
কখনো নীল, কখনো বা কালো।
মেঘে ঢাকা আকাশও দেখেছি , সাদা বা ছাই ।
বিকেলের গোলাপি আকাশ ,সাতরঙ্গা রামধণু –
মাঝে মাঝে তারও দেখা পাই ।
সেদিন এক যন্ত্রযান চেপে ,
গেছিলাম আকাশ সফরে ;
যন্ত্র আর আমি
ছুটে চলেছি কিন্তু রঙ কই !
আগু-পিছু, উঁচু-নিচু ডাইনে, বাঁয়ে
শূণ্য শূণ্য শূণ্য ছাড়া আর কিছু নেই ।
উঃ কি দূরন্ত গতি ,দুর্ব্বার আকর্ষণ-
ছুটে চলেছি শূণ্যের ভিতর,
বাইরে বললেই বা ক্ষতি কি !
সীমাহীন অনন্ত যাত্রার বিভীষিকা
বুকের যন্ত্রটাকে থামিয়ে দেবে নাকি !
প্রচন্ড ভয়ে হাতল চেপে গতি কমাই ,
নাড়া খেয়ে চোখ ধুলে দেখি ,
একি আমি তো আমার খাটে ।
জানলার বাইরে সদ্য
ভোরের আকাশের সোনার হাসি ,
নুতন দিনের কাছে বিদায় নিচ্ছে রাতবাসী ।
আমার কেমন সব গুলিয়ে গেল –
কল্পনা না সত্য-কোনটা ভালবাসি !!
কখনো নীল, কখনো বা কালো।
মেঘে ঢাকা আকাশও দেখেছি , সাদা বা ছাই ।
বিকেলের গোলাপি আকাশ ,সাতরঙ্গা রামধণু –
মাঝে মাঝে তারও দেখা পাই ।
সেদিন এক যন্ত্রযান চেপে ,
গেছিলাম আকাশ সফরে ;
যন্ত্র আর আমি
ছুটে চলেছি কিন্তু রঙ কই !
আগু-পিছু, উঁচু-নিচু ডাইনে, বাঁয়ে
শূণ্য শূণ্য শূণ্য ছাড়া আর কিছু নেই ।
উঃ কি দূরন্ত গতি ,দুর্ব্বার আকর্ষণ-
ছুটে চলেছি শূণ্যের ভিতর,
বাইরে বললেই বা ক্ষতি কি !
সীমাহীন অনন্ত যাত্রার বিভীষিকা
বুকের যন্ত্রটাকে থামিয়ে দেবে নাকি !
প্রচন্ড ভয়ে হাতল চেপে গতি কমাই ,
নাড়া খেয়ে চোখ ধুলে দেখি ,
একি আমি তো আমার খাটে ।
জানলার বাইরে সদ্য
ভোরের আকাশের সোনার হাসি ,
নুতন দিনের কাছে বিদায় নিচ্ছে রাতবাসী ।
আমার কেমন সব গুলিয়ে গেল –
কল্পনা না সত্য-কোনটা ভালবাসি !!
Monday, February 28, 2011
রেখেছ বাঙালি করে মনুষ করো নি
সকালে উঠে দেখি গ্যাস নেই ; একি –
কেরোসিনের ডিব্বাটাও যে খালি ।
দেবার জন্য এক কাপ গরম চা
কাঠকয়লা দিয়ে উনুন ধরায় মলি ।
চা খেয়ে মনটা হল শান্ত ,
মা বললেন খোকা, দুধটা কিনে আনত ।
চল্লিশ কবে গেছে চলে,
মা এখনো ডাকে খোকা বলে ।
চার প্যাকেট দুধ এনে দিলাম মলির হাতে ,
বলে এলাম মাকে- রাতের বেলা একটু খানি
পায়েস দিও পাতে ।।
থলি হাতে নিয়ে, জামা দিলাম গায়ে ,
দেরাজ থেকে টাকা নিয়ে চটি দিলাম পায়ে ।
কিনে নিলাম চারখানা ডিম ,
কিলো খানেক আলু আর শুকনো কটা সিম ।
মাছের বাজার ভীষন চড়া
সবজি কিছুই যায় না ধরা ,
সিম আলুটা ছাড়া
বাজার ভীষন চড়া ।
বাজার দেখে মলিরানীর মুখটা হল কালো ।
এমনিতেও সে দেখতে নয়কো ভালো
তার উপরে রাগলে দেখায় কালো ।
ব্যাস্ত হয়ে তাড়াতাড়ি গামছা কাঁধে নিয়ে ,
দরজা দিলাম স্নানের ঘরে গিয়ে ।
গায়ে মেখে তেল দিলাম খুলে কল ,
কিন্তু একি কলে নেইকো জল ।
ছাড়া জামা নাচার হয়ে
নিলাম পরে গায়ে –
বালতি হাতে নিয়ে পথের ধারে যাই ।
পথের কলে বিরাট লাইন
সাধ্য নেইকো ভাঙ্গব আইন;
ফিরে এলাম চলে ;
বৌকে ডাকি – ভাত দাও গো বলে ।
গামছাখানা হাতে নিয়ে প্যাকেট করি
রেপিং পেপার দিয়ে ;
হাজিরার খাতায় সই করে
স্নানটা নেব সেরে ।
গিন্নিকে করতে খুশী
জোর করে মুখে টেনে হাসি ,
আলুনা সিমের চচ্চরি গলাধ্বকরন করি ।
মাকে বলে ‘আসি’ ছুটলাম তাড়াতাড়ি
ন’টার বাসটা গেল বুঝি ছাড়ি ।
শুনতে পেলাম পিছন থেকে
গিন্নি আমার বলছে হেঁকে –
আজকে যেতে হবে দিদির বাড়ি-
আপিস থেকে ফিরো তাড়াতাড়ি ।
অফিসে দেখি মহা হট্টগোল
মহনবাগান কাল খেয়ে গেছে গোল
ইস্টবেঙ্গলের সাপর্টার আমি ।
নিয়ে গেল একশ টাকা কান ধরে টানি ,
মিষ্টি খেতে হবে আজ,
কাল কাল দিয়ে গোল ; ভারি গন্ডোগোল ।
অফিসেও আজ দিনটা গেছে ভারি মন্দ
সুন্দরী মিস সেন করেছ কথা বন্ধ ;
ছুতো-নাতা নিয়ে কতবার গেছি পাস দিয়ে
মুখে নেই হাসি – বড় বড় হাই তোলে
চোখ করে বন্ধ ।আজ আমার কপালটা মন্দ ।
অফিসের বড়বাবু হল ঘরে এসে
হেসে হেসে বললেন নাকি সুরে কেশে ;
কি করেছেন হরেন বাবু , ইংরাজী যে হল কাবু
স্পেলিং সে তো কবেই গেছেন ভুলে ,
গ্রামার বুঝি খেয়েছেন গুলে !
চেয়ে দেখি মিস সেন এতক্ষনে হেসেছেন ,
ভারি ন্যাকা মেয়ে ।
রাগ চেপে মনে
হাঁটা দিলাম বাস ধরবার টানে
এসে দেখি বাপরে কি কান্ড-
মিছিল চলেছে প্রকান্ড ,
হাতে নিয়ে নাল নীল ঝান্ডা ,
বাসের আশা করে দিল ঠান্ডা।
বাসের আশা ছেড়ে
পা বাড়ালাম হাঁটা পথ ধরে ।
অনেক কষ্টে এলাম যখন বাড়ি ;
দিন্নির মুখ দেখি যেন তোলা হাঁড়ি ।
রসিকতা করে বলতে গেলাম ‘সখী
এলাম ফিরে ‘।
থ্যাবড়া নাক ঘুরিয়ে , মোটা শরীর মুরিয়ে
গিন্নি গেলেন ফিরে রান্না ঘরে ।।
খেতে বসে দেখি, পায়স নেই –এ কি!
চেঁচিয়ে ডাকি মাকে –বলি খেতে দাও না দেখে ?
পায়েস কোথায় গেল ?
মা বললেন এসে –কি করি আর বল –
ছিল নাতো জানা , প্যাকেটের দুধ আসলে ছানা ।
আজ তোর কপালটা মন্দ ,
সকাল থেকেই দুধে ছিল টক টক গন্ধ ।।
সকাল থেকে যে রাগটা রেখে ছিলাম চেপে ;
এবার বুঝি উঠল সেটা ক্ষেপে ,
আমার ছোট্ট ছেলে, ঠামার কোলে বসেছিল
হাত পা মেলে ।
তার কানটা ধরে , দিলাম কষে চড় ,
রেগে বলি –যখনি দেখি কোলেই আছে বসে –
তোর নেইকি পড়া লেখা ?
ছেলের চোখে দেখি জলের রেখা ।
নিজের উপত হল ভীষন ঘৃণা ,
আমার অক্ষমতার নেই দেখি সীমা ,
সব অপমান সহ্য করি মাথা করে নিচু ,
অন্যায় অবিচারে বলিনাতো কিছু ।
এসে ফিরে ঘরে , অসহায় ছেলেটাকে মেরে
শোধ তুলি । মুখে বলি আদর্শের বুলি ।
ধিক আমি অক্ষম পুরুষ –
সপথ নিলাম আজ থেকে হব আমি মানুষ ।
আমার চিন্তার শ্রোত গেল থেমে ,
মনে হল ঘরের ভিতর বাজ এসেছে নেমে ।
মুখের সামনে ড্যানা নেড়ে
গিন্নি দেখি বলছে তেড়ে –
আজ রাতে হবে নাকি শোয়া ,
অনেক্ষন তো হয়ে গেছে গুষ্টির খাওয়া ।
সুবোধ বলকের মত গিন্নির পিছু পিছু ,
চললাম শুতে আমি মাথা করে নিচু ।।
কেরোসিনের ডিব্বাটাও যে খালি ।
দেবার জন্য এক কাপ গরম চা
কাঠকয়লা দিয়ে উনুন ধরায় মলি ।
চা খেয়ে মনটা হল শান্ত ,
মা বললেন খোকা, দুধটা কিনে আনত ।
চল্লিশ কবে গেছে চলে,
মা এখনো ডাকে খোকা বলে ।
চার প্যাকেট দুধ এনে দিলাম মলির হাতে ,
বলে এলাম মাকে- রাতের বেলা একটু খানি
পায়েস দিও পাতে ।।
থলি হাতে নিয়ে, জামা দিলাম গায়ে ,
দেরাজ থেকে টাকা নিয়ে চটি দিলাম পায়ে ।
কিনে নিলাম চারখানা ডিম ,
কিলো খানেক আলু আর শুকনো কটা সিম ।
মাছের বাজার ভীষন চড়া
সবজি কিছুই যায় না ধরা ,
সিম আলুটা ছাড়া
বাজার ভীষন চড়া ।
বাজার দেখে মলিরানীর মুখটা হল কালো ।
এমনিতেও সে দেখতে নয়কো ভালো
তার উপরে রাগলে দেখায় কালো ।
ব্যাস্ত হয়ে তাড়াতাড়ি গামছা কাঁধে নিয়ে ,
দরজা দিলাম স্নানের ঘরে গিয়ে ।
গায়ে মেখে তেল দিলাম খুলে কল ,
কিন্তু একি কলে নেইকো জল ।
ছাড়া জামা নাচার হয়ে
নিলাম পরে গায়ে –
বালতি হাতে নিয়ে পথের ধারে যাই ।
পথের কলে বিরাট লাইন
সাধ্য নেইকো ভাঙ্গব আইন;
ফিরে এলাম চলে ;
বৌকে ডাকি – ভাত দাও গো বলে ।
গামছাখানা হাতে নিয়ে প্যাকেট করি
রেপিং পেপার দিয়ে ;
হাজিরার খাতায় সই করে
স্নানটা নেব সেরে ।
গিন্নিকে করতে খুশী
জোর করে মুখে টেনে হাসি ,
আলুনা সিমের চচ্চরি গলাধ্বকরন করি ।
মাকে বলে ‘আসি’ ছুটলাম তাড়াতাড়ি
ন’টার বাসটা গেল বুঝি ছাড়ি ।
শুনতে পেলাম পিছন থেকে
গিন্নি আমার বলছে হেঁকে –
আজকে যেতে হবে দিদির বাড়ি-
আপিস থেকে ফিরো তাড়াতাড়ি ।
অফিসে দেখি মহা হট্টগোল
মহনবাগান কাল খেয়ে গেছে গোল
ইস্টবেঙ্গলের সাপর্টার আমি ।
নিয়ে গেল একশ টাকা কান ধরে টানি ,
মিষ্টি খেতে হবে আজ,
কাল কাল দিয়ে গোল ; ভারি গন্ডোগোল ।
অফিসেও আজ দিনটা গেছে ভারি মন্দ
সুন্দরী মিস সেন করেছ কথা বন্ধ ;
ছুতো-নাতা নিয়ে কতবার গেছি পাস দিয়ে
মুখে নেই হাসি – বড় বড় হাই তোলে
চোখ করে বন্ধ ।আজ আমার কপালটা মন্দ ।
অফিসের বড়বাবু হল ঘরে এসে
হেসে হেসে বললেন নাকি সুরে কেশে ;
কি করেছেন হরেন বাবু , ইংরাজী যে হল কাবু
স্পেলিং সে তো কবেই গেছেন ভুলে ,
গ্রামার বুঝি খেয়েছেন গুলে !
চেয়ে দেখি মিস সেন এতক্ষনে হেসেছেন ,
ভারি ন্যাকা মেয়ে ।
রাগ চেপে মনে
হাঁটা দিলাম বাস ধরবার টানে
এসে দেখি বাপরে কি কান্ড-
মিছিল চলেছে প্রকান্ড ,
হাতে নিয়ে নাল নীল ঝান্ডা ,
বাসের আশা করে দিল ঠান্ডা।
বাসের আশা ছেড়ে
পা বাড়ালাম হাঁটা পথ ধরে ।
অনেক কষ্টে এলাম যখন বাড়ি ;
দিন্নির মুখ দেখি যেন তোলা হাঁড়ি ।
রসিকতা করে বলতে গেলাম ‘সখী
এলাম ফিরে ‘।
থ্যাবড়া নাক ঘুরিয়ে , মোটা শরীর মুরিয়ে
গিন্নি গেলেন ফিরে রান্না ঘরে ।।
খেতে বসে দেখি, পায়স নেই –এ কি!
চেঁচিয়ে ডাকি মাকে –বলি খেতে দাও না দেখে ?
পায়েস কোথায় গেল ?
মা বললেন এসে –কি করি আর বল –
ছিল নাতো জানা , প্যাকেটের দুধ আসলে ছানা ।
আজ তোর কপালটা মন্দ ,
সকাল থেকেই দুধে ছিল টক টক গন্ধ ।।
সকাল থেকে যে রাগটা রেখে ছিলাম চেপে ;
এবার বুঝি উঠল সেটা ক্ষেপে ,
আমার ছোট্ট ছেলে, ঠামার কোলে বসেছিল
হাত পা মেলে ।
তার কানটা ধরে , দিলাম কষে চড় ,
রেগে বলি –যখনি দেখি কোলেই আছে বসে –
তোর নেইকি পড়া লেখা ?
ছেলের চোখে দেখি জলের রেখা ।
নিজের উপত হল ভীষন ঘৃণা ,
আমার অক্ষমতার নেই দেখি সীমা ,
সব অপমান সহ্য করি মাথা করে নিচু ,
অন্যায় অবিচারে বলিনাতো কিছু ।
এসে ফিরে ঘরে , অসহায় ছেলেটাকে মেরে
শোধ তুলি । মুখে বলি আদর্শের বুলি ।
ধিক আমি অক্ষম পুরুষ –
সপথ নিলাম আজ থেকে হব আমি মানুষ ।
আমার চিন্তার শ্রোত গেল থেমে ,
মনে হল ঘরের ভিতর বাজ এসেছে নেমে ।
মুখের সামনে ড্যানা নেড়ে
গিন্নি দেখি বলছে তেড়ে –
আজ রাতে হবে নাকি শোয়া ,
অনেক্ষন তো হয়ে গেছে গুষ্টির খাওয়া ।
সুবোধ বলকের মত গিন্নির পিছু পিছু ,
চললাম শুতে আমি মাথা করে নিচু ।।
Sunday, February 27, 2011
আমার শহরে এখোনো পাওয়া যায়
আমার শহর খুঁজে দেখো মিতা
একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে কেউ ভালবাসা নিয়ে ।
এখনো একপাশে একলাটি
চোখ পেতে পিচের রাস্তায় ।
ভালবাসা যদি কেউ বিকায় ...
সস্তায় । কেউ যদি বিনিময়ে
অর্থ না দিয়ে শুধু অপমান
করে বিতরন – বলা যায় না ,
যার কিছু নেই ,
অথবা কিছুই যে নয়
কিছু পাবার আশায়, ভালবাসা দিয়ে
কিনে নেবে অপমান,
মেখে নেবে গায় ।
তার ভালবাসা টল টলে
ফুল হয়ে দুলবে গলায় –
এ সমাজে যার কিছু পরিচয় আছে ,
অথবা যে ‘কেউ কেটা’ হয়
একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে কেউ ভালবাসা নিয়ে ।
এখনো একপাশে একলাটি
চোখ পেতে পিচের রাস্তায় ।
ভালবাসা যদি কেউ বিকায় ...
সস্তায় । কেউ যদি বিনিময়ে
অর্থ না দিয়ে শুধু অপমান
করে বিতরন – বলা যায় না ,
যার কিছু নেই ,
অথবা কিছুই যে নয়
কিছু পাবার আশায়, ভালবাসা দিয়ে
কিনে নেবে অপমান,
মেখে নেবে গায় ।
তার ভালবাসা টল টলে
ফুল হয়ে দুলবে গলায় –
এ সমাজে যার কিছু পরিচয় আছে ,
অথবা যে ‘কেউ কেটা’ হয়
Subscribe to:
Posts (Atom)

